Text size A A A
Color C C C C
পাতা

কী সেবা কীভাবে পাবেন

স্বাধীনতা পরবর্তি বাংলাদেশ পুনর্গঠনের লক্ষ্যে ত্রাণ ও পুনর্বাসন অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করা হয়। অত্র অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠার পর হতে জনসাধারনের অর্থনৈতিক অবস্থা ও গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়নে নিম্নলিখিত কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

    ১। জি আর চাল ও জি আর ক্যাশঃকালবৈশাখী , ঘুর্ণিঝড় , অগ্নিকান্ড , বন্যা , ভূমিকম্প , নদীভাঙ্গন ইত্যাদি প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ক্ষতিগ্রস্তদের তাৎক্ষণিক সাহায্য হিসাবে জি আর চাল এবং জি আর ক্যাশ বরাদ্দ প্রদান করা হয়। এ কর্মসূচীর আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি অথবা মৃত ব্যক্তির পরিবার , ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বরাদ্দ প্রদান করা হয়। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার প্রতি ২০.০০ কেজি চাল , মৃত ব্যক্তির পরিবারকে ১.০০০ মেঃটন চাল , আহত ব্যক্তির পরিবারকে ৫০০.০০ কেজি চাল এবং ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠান কে সর্বোচ্চ ৩.০০০ মেঃ চাল বরাদ্দ প্রদান করা হয়।

     

 

 

 

২। গৃহ বাবদ মঞ্জুরীঃকালবৈশাখী , ঘুর্ণিঝড় , অগ্নিকান্ড , বন্যা , ভূমিকম্প , নদীভাঙ্গন ইত্যাদি প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ক্ষতিগ্রস্তদের তাৎক্ষণিক সাহায্য হিসাবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার এবং প্রতিষ্ঠান সমূহের গৃহ নির্মানের জন্য গৃহবাবদ মঞ্জুরী বরাদ্দ প্রদান করা হয়।

 

      ৩। ঢেউটিনঃকালবৈশাখী , ঘুর্ণিঝড় , অগ্নিকান্ড , বন্যা , ভূমিকম্প , নদীভাঙ্গন ইত্যাদি প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ক্ষতিগ্রস্তদের গৃহ নির্মানের সাহায্য হিসাবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার এবং প্রতিষ্ঠান সমূহের গৃহ নির্মানের জন্য ঢেউটিন  বরাদ্দ প্রদান করা হয়ে থাকে।

 

      ৪। কম্বল , চাঁদর , শীতবস্ত্র বরাদ্দঃএ কর্মসূচীর আওতায় অতি মাত্রায় শীতে আক্রান্ত পরিবারের কষ্ট লাঘবের জন্য অসহায় পরিবারকে কম্বল , চাঁদর , শীতবস্ত্র প্রদান করা হয়।

 

৫। ভিজিএফ কর্মসূচীঃকর্মহীন সময়ে দরিদ্র জনসাধারনকে খাদ্য সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে এ কর্মসূচী পরিচালিত হয়ে থাকে। এ কর্মসূচীর আওতায় দিনমজুর অথবা সাময়িক মজুর অথবা যাদের আয় অনিয়মিত , অতি সামান্য অথবা পারিবারিক আয়ের কোন রকম ব্যবস্থা নাই এমন মহিলা / পুরুষ , ভূমিহীণ অথবা ০.১৫ একরের চেয়ে কম জমির মালিক মহিলা / পুরুষ , পঙ্গু স্বামীর স্ত্রী অথবা প্রতিবন্ধি পরিবার। তবে যে সকল পরিবার সরকারী অন্য কোন চলমান সুবিধা ভোগ করেন তারা এ কর্মসূচীর সুবিধা প্রাপ্ত হবেন না।

 

      ৬। গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষনাবেক্ষণ ( টি আর )ঃবিভিন্ন ছোট ছোট প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে গ্রামাঞ্চলের দরিদ্র ও বেকার জনসাধারনের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার জন্য এ কর্মসূচী পরিচালিত হয়ে থাকে। কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি সমাজের অর্থনৈতিকভাবে অপেক্ষাকৃত দুর্বল ও দুঃস্থ জনগণের অংশ গ্রহনে তাদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও এ কর্মসূচীর অন্যতম উদে্শ্য। এ কর্মসূচীর আওতায় নিম্নলিখিত উন্নয়নমূলক কাজ করা হয়ে থাকে।

      ১। কাবিখা প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়িত রাস্তার মেরামত।

      ২। বাঁধ ও রাস্তা মেরামত।

      ৩। নালা নির্মাণ , সংস্কার , নর্দমা খনন এবং সংরক্ষণ।

      ৪। জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান সমূহ উন্নয়ন।

      ৫। জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ উন্নয়ন কল্পে জনহিতকর কার্য সম্পাদন।

      ৬। গ্রামীণ যাতায়াত ব্যবস্থার সুবিধার্থে বাঁশ ও কাঠের সাঁকো নির্মাণ।

 

 

৬। গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার ( কাবিখা )ঃপ্রাকৃতিক দূর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থ গ্রামীণ অবকাঠামো নির্মাণ ও পুনঃ নির্মাণ এবং সাধারন অবস্থায় গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার ( কাবিখা ) কর্মসূচীর আওতায় বিভিন্ন ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়ন করাই এ কর্মসূচীর উদ্দেশ্য। তবে বাস্তবায়িত কর্মসূচীর মূল লক্ষ্য হচ্ছে গ্রামীণ এলাকায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি , গ্রামীণ জনগনের আয় বৃদ্ধি , দেশের সর্বত্র খাদ্যশষ্য সরবরাহে ভারসাম্য আনয়ন , দারিদ্র বিমোচনে ইতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করা। এ কর্মসূচীর আওতায় পুকুর খনন ও পুনঃ খনন , খাল খনন ও পুনঃ খনন , রাস্তা নির্মাণ ও পুনঃ নির্মাণ , জলাবদ্ধতা দূরীকরণের জন্য নালা ও সেচ নালা খনন ও পুনঃ খনন , বিভিন্ন জনকল্যাণমূলত প্রতিষ্টানের মাঠে মাঠি ভরাট , মাটির কিল্লা নির্মাণ ও পুনঃ নির্মাণ করা হয়।

      ৭। গ্রামীণ রাস্তায় ছোট ছোট সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ কর্মসূচীঃ এ কর্মসূচীর আওতায় গ্রামীণ অককাঠামো সংস্কার ( কাবিখা ) কর্মসূচীর আওতায় বাস্তবায়িত রাস্তা সম্পুর্ন রুপে ব্যবহার উপযোগী করার জন্য ১২ মিঃ বা ৪০ ফিট দৈর্ঘ্যের ছোট ছোট সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ করা হয়।

      ৮। অতি-দারিদ্রের জন্য কর্মসংস্থান প্রকল্পঃ কর্মহীন সময়ে বেকার জনসাধারণের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে অতি দারিদ্রের জন্য কর্মসংস্থান প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এ কর্মসূচীর আওতায় বেকার জনসাধারনকে জব কার্ড প্রদান করা হয়। কার্ডভুক্ত শ্রমিকগণ নির্ধারিত প্রকল্পে কাজ করে ১৭৫ টাকা মজুরী পেয়ে থাকেন।